চট্টগ্রাম, মাঝির ঘাট:
চট্টগ্রাম মহানগরের সদরঘাট থানাধীন মাঝিরঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আস্তানা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ সিন্ডিকেটের মুল হোতা ২৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাসির, পিতা: আব্দুল শুক্কুর মিয়া, মাতা: নাজমা বেগম, সাং: ৭ নং বাদসা মিয়ার বাড়ি, দক্ষিণ মাদারবাড়ি, বাংলা বাজার,সদরঘাট থানা, চট্টগ্রাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঝির মোড় থেকে নদীর দিকে যাওয়ার পথে লবণ ফ্যাক্টরির পাশের একটি কক্ষে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির মহোৎসব। নাসির ও তার সহযোগী খোরশেদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
এছাড়াও, লবণ ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ব্যাক্তি, জাহাজের মাস্টার,মাদক বিক্রেতাদের নিয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে লক্ষ টাকার জুয়ার বোর্ড বসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিক জুয়ায় সর্বস্বান্ত হয়ে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ ব্যক্তিগত মূল্যবান সামগ্রী হারাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকার মোবাইল চোর, ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যাবসায়ীরা নিয়মিত এই আস্তানায় এসে ইয়াবা সেবন ও জুয়া খেলায় অংশ নেয়। এক মাস আগে সদরঘাট থানার ওসি জনাব আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে নাসিরের জুয়ার বোর্ড থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, তবে অজ্ঞাত কারণে কয়েকদিন পরই পুনরায় শুরু হয় এই অবৈধ মাদক ব্যাবসা ও জুয়া।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ এর সহায়তায় নাসির প্রশাসন কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তার আস্তানা পুনরায় চালু করেছে। নাসির প্রকাশ্যে দাবি করে বেড়ায় যে, “সদরঘাট থানা টাকা দিয়ে কিনে ফেলেছি।”
নাসিরের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা সময় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, হুমকি ও আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। তবুও, তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।