April 15, 2026, 5:56 pm

সিলেটের সাদা পাথর: চুরি ও পরিবেশগত বিপদ

কামরুজ্জামান, সিলেট

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাদা পাথর, যা স্থানীয়ভাবে ‘নগর পাথর’ নামে পরিচিত, এখন একটি বড় সংকটের মুখে। প্রতিদিন এই মূল্যবান পাথর চুরি হচ্ছে, যার কারণে শুধু পরিবেশের উপরই নয়, দেশের পর্যটন শিল্প এবং ঐতিহ্যেও বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। এই পাথর, যা মূলত সিলেটের নদী তীর এবং পাহাড়ী অঞ্চলে পাওয়া যায়, এর সাদা স্ফটিক গঠন এবং দুর্লভ সৌন্দর্য্যের কারণে অনেকের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সাদা পাথরের গঠন এবং ভূতাত্ত্বিক গুরুত্ব অপরিসীম। এটি সিলেটের নদী এবং পাহাড়ের প্রকৃতি বজায় রাখতে সহায়তা করে। নদী তীরে পাথরের উপস্থিতি পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং নদী তীরের ক্ষয় রোধ করে। এছাড়া, এই পাথর গুলোর মধ্যে খনিজ শোষণের ক্ষমতা থাকায়, নদীর পানি শোধনেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে, এই পাথরগুলি চুরি হয়ে যাওয়ার ফলে পরিবেশে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। পাথরগুলো যদি নদী তীরে থেকে চলে যায়, তাহলে স্রোতের গতি বৃদ্ধি পায়, ফলে নদীর তীর ভাঙন ধরতে পারে এবং নদী প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

অপরদিকে, সাদা পাথরের চুরি মূলত ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে। অবৈধ খননকারী চক্র এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পাথরগুলো চুরি করে, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়। সিলেটের একাধিক এলাকার নদী তীরবর্তী অঞ্চলে এই চুরি ঘটছে, এবং স্থানীয় প্রশাসনের অদক্ষতা এবং পরিবেশ সচেতনতার অভাব এদের কার্যক্রমে সহায়তা করছে। এই চুরির ফলে শুধু প্রকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং সিলেটের পর্যটন শিল্পও চরম বিপদে পড়েছে। পর্যটকরা সাদা পাথরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসতেন, কিন্তু পাথর চুরির কারণে এখন এই এলাকার প্রাকৃতিক দৃশ্য অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত।

এদিকে, সাদা পাথরের চুরির কারণে সিলেটের স্থানীয় জনগণও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। চুরির ফলে নদীর তীরের জমি ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে, এবং নদী প্রবাহের গতির কারণে অতিরিক্ত বন্যার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এটি কৃষক, মৎস্যজীবী এবং অন্য অনেক মানুষকে ব্যাপক সমস্যায় ফেলেছে। পাথর চুরি রোধে স্থানীয় প্রশাসন আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।

তবে, পাথর চুরির প্রতিরোধে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রথমত, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে তারা পরিবেশের গুরুত্ব বুঝতে পারে এবং পাথর চুরির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। তৃতীয়ত, সিলেটের পরিবেশ এবং পর্যটন শিল্প রক্ষার্থে সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।

সিলেটের সাদা পাথরের চুরি শুধু একটি প্রকৃতির ক্ষতি নয়, এটি দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং পরিবেশের জন্য একটি বড় হুমকি। তাই, সবার উচিত একযোগে কাজ করা এবং এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা