বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী ছিল অবহেলিত। প্রতিবন্ধীদের জীবন পরিচালনের জন্য প্রয়োজন হয় বিভিন্ন ধরণের অনুদানের। সেই লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমদিত লিফাত প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন একটি সেবা মূলক ফাউন্ডেশন। বিভিন্ন ভাবে সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবন্ধীদের জন্য অনুদান এর ব্যবস্থা করে আসছে।
সোমবার ২৫ আগষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন করোই তলা এলাকায় লিফাত প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এসময় সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন আলহাজ্ব মনসুর আহম্মেদ,( বীর মুক্তিযোদ্ধা ),বিশেষ অতিথি হাজী মোঃ মহিউদ্দিন সেচ্ছা সেবক ( লিফাত প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন ), আয়োজনে লিফাত প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন। চেয়ারম্যান -রিয়াজ সিকদার, ডা.কানিজ ফাতেমা কনা ( ম্যানেজিং ডিরেক্টর ),
এই আর্টিকেলে জানাবো জাতীয় লিফাত প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন থেকে প্রতিবন্ধীদের জন্য অনুদান নেয়ার উপায় ও কি কি প্রয়োজন হবে সেই বিষয়ে ধরণা প্রদান।
২০২২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত লিফাত প্রতিবন্ধ ফাউন্ডেশন। আইনগত স্বীকৃতি পাওয়া। এর লক্ষ্য ছিল গণপ্রজাতন্ত্রী জনগণের উন্নয়ন, সুরক্ষা এবং অধিকার নিশ্চিত করা।
লিফাত প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সেবা ও কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী করা এবং তাদের জীবনমান উন্নত করা। নিচে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমসমূহ তুলে ধরা হলো:
১. চিকিৎসা ও থেরাপি সেবাঃ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনামূল্যে থেরাপি প্রদান। ভ্রাম্যমাণ থেরাপি ভ্যানের মাধ্যমে ওয়ান-স্টপ সেবা। অটিজম রিসোর্স সেন্টারের মাধ্যমে থেরাপি এবং কাউন্সেলিং সেবা।
২. শিক্ষা ও প্রশিক্ষণঃ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এবং অটিজম শিশুদের জন্য বিশেষ স্কুল পরিচালনা। প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল বই ও বিশেষ শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ।
৩. চলাচলের সহায়তাঃ হুইলচেয়ার, ক্রাচ, হিয়ারিং এইড, হোয়াইট ক্যান, এবং কৃত্রিম অঙ্গ সরবরাহ। বিনামূল্যে এসব উপকরণের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ব্যবস্থা।
৪. অর্থনৈতিক ও সামাজিক সেবাঃ ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান এবং কর্মজীবী প্রতিবন্ধীদের জন্য হোস্টেল পরিচালনা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ।
৫. তথ্য ও প্রযুক্তি সুবিধাঃ প্রতিবন্ধীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ। তথ্য সংরক্ষণ ও প্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে ডাটাবেস তৈরি।
৬. বিবাহের কাজ সম্পূর্ণ করাঃ- এই সংস্থা টির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিদের বিবাহের কাজ সম্পূর্ণ করা।
৭. অন্যান্য উদ্যোগঃ অটিজম ও এনডিডি কর্নার চালু করা। বিশেষ শিশুদের জন্য খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবন সহজতর করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়ক উপকরণ সরবরাহ করা হয়। এগুলোর মধ্যে হুইলচেয়ার, ক্রাচ, কৃত্রিম অঙ্গ, সাদা ছড়ি, টকিং ডিভাইস, এবং শ্রবণ ডিভাইস অন্তর্ভুক্ত। এই উপকরণগুলো বিশেষভাবে তৈরি, যা ব্যবহারকারীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সাহায্য করে।